কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান বৈশিষ্ট্য সমূহ কি কি?

Rate this post

ভূমিকা:

কেন্দ্রীয় ব্যাংক হলো সরকারের নিয়ন্ত্রন এমন একটি একক ও অনন্য ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান যা দেশের অন্যান্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠাসমুহকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংককে একটি ব্যাংক বলা হলেও এই ব্যাংকের কিছু বৈশিষ্ট রয়েছে।

এই বৈশিষ্ট্যগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংককে যা একে অন্য সকল প্রকার ব্যাংক থেকে আলাদা করে।

 

এখন আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান বৈশিষ্ট্য সমূহ আলোচনা করবl নিম্নে এইসম্পর্কে আলোচনা করা হলো:

 

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান নৈশিষ্ট্যসমূহ কি কি?

 

 

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংক হলো সরকারের নিয়ন্ত্রন এমন একটি একক ও অনন্য ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান যা দেশের অন্যান্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠাসমুহকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংককে একটি ব্যাংক বলা হলেও এই ব্যাংকের কিছু বৈশিষ্ট রয়েছে।

এই বৈশিষ্ট্যগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংককে যা একে অন্য সকল প্রকার ব্যাংক থেকে আলাদা করে।

 

এখন আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান বৈশিষ্ট্য সমূহ আলোচনা করবl নিম্নে এইসম্পর্কে আলোচনা করা হলো:

 

 

১। একক সংগঠন:

 

তবে বিভিন্ন দেশে এই ব্যাংকের অনেক শাখা থাকতে পারে।

তাই বলা যায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটী একক সংগঠন যা দেশে কেবল একটিমাত্র থাকে।

 

যে স্থানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শাখা থাকেনা, সেখানে অন্যান্য সকল বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব পালন করে থাকে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান নৈশিষ্ট্যসমূহ কি কি?
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান নৈশিষ্ট্যসমূহ কি কি?

 

আরো পড়ুন

 

২। আইনগত সত্ত্বা:

 

 

 

দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঐদেশের সংবিধান দ্বারা স্বয়ংসিদ্ধ হয়।

একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারী অধ্যাদেশ অনুযায়ী গঠিত হয় ।

 

তা এই ব্যাংক অন্যান্য সকল ব্যাংকের থেকে সবচেয়ে শক্তিশালী পৃথক আইনগত সত্ত্বা।

 

 

 

৩। মালিকানার ধরন:

 

 

 

এই ব্যাংক মূলত সরকারি ও বেসরকারী উভয় মালিকানা থাকতে পারে।

বেশিরভাগ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মালিকানা সরকার হয়ে থাকে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো  সরকারী ও বেসরকারী যৌথ মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত।

 

 

৪। উদ্দেশ্যের ভিন্নতা:

 

 

মুনাফা অর্জন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান উদ্দেশ্য নয়।

যেকোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর মূল উদ্দেশ্য অন্যান্য সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক একক ব্যক্তির আমানত গ্রহন বা মুনাফা অর্জন করেনা।

 

মুদ্রার সরবরাহের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা করাই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হয়ে থাকেl

 

 

 

৫। নোট প্রচলন:

 

আরো পড়ুন

 

 

একটি দেশের নতুন নোট তৈরি বা ইস্যু করার অধিকার কেবল ওই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর হাতে থাকে।

 

দেশের সংকটের ফলে নতুন নোট বাতিল এবং নতুন নোট ইস্যু করার ক্ষমতা রয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর আও তাইl

নোট প্রচলন বা বাতিল একক ভূমিকা পালন করে থাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

 

 

 

৬। মুদ্রার মান সংরক্ষণ:

 

 

 

বিদেশী বাজারে দেশের মুদ্রার মান সন্মানজনক অবস্থায় নিয়ে যাওয়া এবং দেশের অভ্যন্তরে মুদ্রার মান বজায় রাখাও কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর মূল বৈশিষ্ট্য।

 

এছাড়াও দেশের মুদ্রার মানসম্মত রক্ষার দায়িত্বে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর বৈশিষ্ট্য তুলনানীয়l

 

 

৭। সরকারী নিয়ন্ত্রণ:

 

 

 

সাধারণত সংশ্লিষ্ট দেশের অর্থমন্ত্রনালয় বা অর্থ বিভাগের নিয়ন্ত্রণে উক্ত দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিচালিত হয়।

 

যদি কোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সরকারি বেসরকারী যৌথ মালিকানাও থাকে, সেক্ষেত্রে সরকারের পরিচালনা দ্বারাই কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরিচালিত হয়।

 

 

 

৮। সরকারের প্রতিনিধি করা:

 

 

 

এই ব্যাংক সরকারের পক্ষে অর্থের সকল প্রকারের লেনদেন সম্পন্ন করে এবং সরকারী সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠানের হিসেব রাখে।

তাই এই ব্যাংক সরকারি ব্যাংকও বলা হয়ে থাকে।

 

 

৯। অর্থ বাজারের অভিভাবক:

 

 

 

যদি কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান সমস্যা পড়ে, সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক উক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করা থাকে।

এই ব্যাংক দেশের অর্থ বাজারের গঠন, পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর একটি অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

 

আরো পড়ুন

 

১০। অন্যান্য ব্যাংকের ব্যাংকার ও নিয়ন্ত্রক:

 

 

দেশের অভ্যন্তরে সকল বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং সকল প্রকারের আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যাংকার এবং ব্যাংকিং সিস্টেমকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রতিটি ব্যাংকের জন্য কিছু নীতিমালা তৈরি করেছে। এই নীতিমালা মেনে চলতেই হবে উক্ত ব্যাংকগুলোকে অন্যথায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক উক্ত ব্যাংককে বন্ধ করে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।

 

১১। খণের শেষ আশ্রয়:

 

 

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংক উক্ত দেশের সকল বাণিজ্যিক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শেষ আশ্রয়কেন্দ্র। সংকটের সময় যদি কোথাও না সহযোগিতা পায়,

সেক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক উক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সহযোগিতা করে থাকে। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঋণের শেষ আশ্রয়কেন্দ্র বলা হয়।

 

 

১২। বৈদেশিক বিনিময় নিয়ন্ত্রণকারী:

 

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংক এককভাবে কোন দেশের বৈদেশিক বানিজ্যের বিনিময় মাধ্যম পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ করে থাকে ।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বৈদেশিক বিনিময় নিয়ন্ত্রণ করার জন্য বৈদেশিক মুদার বিনিময় হার নির্ধারণ করে, রিজার্ভ সংরক্ষণ করে,

 

আভ্যন্তরীণ লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করে এবং এই বিষয়ে বিদেশী কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সাথে সম্পর্ক বজায় রাখে।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যাবলী:

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংক অন্যান্য সকল ব্যাংকের মত একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠান যা সকল বাণিজ্যিক ব্যাংকের প্রাণকেন্দ্র।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক রাষ্ট্র কর্তৃক পরিচালিত হয়ে থাকে।

 

এই ব্যাংক একটি দেশের জাতীয় স্বার্থে কাজ করে। যা মূল উদ্দেশ্য জনকল্যাণ এবং যার উদ্দেশ্য মূনাফা অর্জন নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর কার্যাবলী নিচে বর্ণনা করা হলোঃ

 

 

১। নোট ইস্যু ও নিয়ন্ত্রন করা:

 

 

যে সকল নোটে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্ণরের স্বাক্ষর থাকে মূলত সেই নোটগুলো একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকে কর্তৃক ইস্যু করা।

 

একটি দেশের নতুন নোট প্রচলন বা নোট বাতিল দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক কর্তৃক পরিচালিত হয়। তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ইচ্ছে করলেই যে কোন পরিমাণ নোট ইস্যু করতে পারবেন না।

 

কারণ নোট ইস্যু করার জন্য প্রতিটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক গুলোকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ বা স্বর্ণ রিজার্ভ হিসেবে জমা রাখতে হয়।

 

 

২। সরকারের ব্যাংক:

 

 

বিভিন্নভাবে সরকার আয় করে থাকে, তবে সরকারি কর্মচারীদের বেতেন ও উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সরকারকে ব্যয় করতে হয়।

 

এই সকল ব্যয় নির্বাহ করার জন্য প্রতিটি দেশের সরকারকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর সহায়তা নিতে হয়।

আবার সংকটের সময় প্রতিটি দেশের সরকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে ঋণ গ্রহণ করে থাকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে একক ব্যক্তি ঋণ গ্রহন করতে পারেনা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান নৈশিষ্ট্যসমূহ কি কি?

 

 

 

৩। অন্যান্য ব্যাংকের ব্যাংক:

 

 

 

অন্যান্য সকল ব্যাংক ইচ্ছেমত কোনো কিছু করতে পারেনা। কেন্দ্রীয় ব্যাংক অন্যান্য ব্যাংকের জন্য নিয়ম ও নীতিমালা তৈরি করে থাকে।

কোনো নীতিমালার বাইরে গিয়ে যদি কোনো ব্যাংক কাজ করে থাকে, তাহলে সেই ব্যাংকের সকল কার্যক্রম কেন্দ্রীয় ব্যাংক বন্ধ করে দেয়।

 

ব্যাংকগুলো  বাণিজ্যিক ব্যাংক গুলো তাদের আমানতের একটি অংশ বাধ্যকতামূলকভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ জমা রাখতে হয়।

সংকটের সময় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো অন্যান্য ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারে।

 

৪। ঋণের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল:

 

 

ব্যাংকগুলো সেই টাকা যখন একটা নির্দিষ্ট মেয়াদে বিনিয়োগ করে, তখন সেই টাকা মেয়াদ শেষ না হওয়া অবধি তুলতে পারেনা।

 

কিন্তু, যদি আমানত গ্রহণকারী ব্যক্তি তার জমানো টাকা তুলতে আসে, তখন ব্যাংকের কাছে টাকা থাকেনা।

 

সেজন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক এর কাছে ঋণ গ্রহণ করে থাকে। সেজন্য বলা যায় একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক হচ্ছে ঐদেশের ঋণের সর্বশেষ আশ্রয়স্থল।

 

 

৫। বিনিময় হার ঠিক করা:

 

 

 

বিনিময় বলতে মূলত বোঝায়, আপনি যখন বিদেশ থেকে যেকোনো পণ্য নিয়ে আসেন তখন কি সেই পণ্য এমনিতেই চলে আসে? জ্বি না,

আসলে আপনি যখন বিদেশ থেকে কোনো পণ্য নিতে যান, তখন বিনিময়ের মাধ্যমে সেই দেশের অনুরূপ করতে হয়।

এজন্য আপনাকে হয়তো ডলার দিতে হবে এবং সেই ডলার আপনাকে আপনার দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক দিয়ে থাকে। অপরদিকে,

 

আপনার দেশ থেকে যদি বাইরের দেশের কেউ কোনো জিনিস ক্রয় করতে চায়, সেক্ষেত্রে ঐদেশের বিনিময়ের মাধ্যম দিতে হয় অথবা ডলার দিতে হয়।

 

৬। নিকাশ ঘর:

 

 

নিকাশ ঘর হচ্ছে প্রতিটি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের একটি অবিচ্ছেদ্য বৈশিষ্ট্য। নিকাশ ঘরকে ক্লিয়ারিং হাউজও বলে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেকোনো বাণিজ্যিক ব্যাংকের ক্লিয়ারিং হাউজ হিসেবে কাজ করে থাকেl

 

 

৭। ঋণ নিয়ন্ত্রণ:

 

 

 

যদি অর্থের পরিমাণ প্রয়োজনের চেয়ে থেকে বেশি হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যায়। আবার,

অর্থের সরবরাহ কম হলে জিনিসপত্রের দাম কমে যায়। অর্থের সরবরাহ কম বেশি করে জিনিসপত্রের দাম কম বেশি করাকে মুদ্রাস্ফীতি বলে।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংক সরকারের চাহিদা অনুযায়ী অর্থের জোগায় বাড়িয়ে বা কমিয়ে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

 

 

৮। উন্নয়নমূলক কার্যকলাপ:

 

 

 

বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে সরকারকে সহযোগিতা করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কাজ। সরকার বিভিন্ন খাতের উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে অর্থ ঋণ হিসেবে নেয়।

 

পরবর্তীতে সেই অর্থ জনগণের কাছ থেকে বিভিন্ন ভ্যাটের মাধ্যমে তুলে নেয়।

এভাবেই একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে সরকারের সহযোগিতা করে উন্নয়নমূলক কাজে অংশগ্রহণ করে থাকে।

 

শেষকথা:

 

উপরের আলোচনা থেকে আমরা জানতে পারলাম যে,

কেন্দ্রীয় ব্যাংক হলো সরকারের নিয়ন্ত্রন এমন একটি একক ও অনন্য ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠান যা দেশের অন্যান্য ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠাসমুহকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।

 

কেন্দ্রীয় ব্যাংককে একটি ব্যাংক বলা হলেও এই ব্যাংকের কিছু বৈশিষ্ট রয়েছে। এই বৈশিষ্ট্যগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংককে যা একে অন্য সকল প্রকার ব্যাংক থেকে আলাদা করে।

 

সবাই ভালো থাকুন সুস্থ থাকুন এই বলে আমি আমার লেখা শেষ করলামl

 

 

 

5 thoughts on “কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান বৈশিষ্ট্য সমূহ কি কি?”

  1. Good day!

    I want to share with you the secret of how to save not only money but also time when buying medicines. Do you know how often you have to run around pharmacies looking for a bargain price? Well, here I have great news – you don’t have to do that anymore!

    Visit >> Pharmacy Review <> Pharmacy Review << and save now!

    Sharing experiences and offering mutual assistance – together we are stronger!

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *