নানুর শরীর আরোও অবস্থা আরোও খারাপ হচ্ছে

নানুর শরীর আরোও অবস্থা আরোও খারাপ হচ্ছে।একবার নাকি ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলেন তিনি বলেছেন এটা নাকি বার্ধক্য জনিত সমস্যা। প্রায় মাস তিনেক পরে আমি নানুর বাসায় গেলাম।গিয়ে দেখি নানু খাটে শুয়ে আছে।ওঠে বসার মত অবস্থায় নাই।আমার মুখে একটা হাসি ফুটে ওঠল।নানু আমাকে দেখে বলল, —নানা ভাই এতদিনে আমার কথা মনে মরল?

বাবা বাসা থেকে বের হতে দেয় না।আজকে লুকিয়ে এসেছি। —তোমার বাবা চিরকাল একটা পিশাচ স্বভাবের মানুষ ছিল।নানা ভাই বস তোমার সাথে আমার কিছু কথা আছে। নানু ওঠে বসার চেষ্টা করছেন।কিন্তু বসতে পারছেন না।আমি নানুকে বললাম, —তোমার ওঠে বসরে হবে না।

কি বলবে বল! —নানা ভাই তুমি তো জান আমাদের সব সম্পতির একমাত্র ওয়ারিশ তুমি।কিন্তু সেখানও কিছু পরিমাণ ভাগ তোমার চাচাত নানা এবং তাদের ছেলে মেয়েরা পাবে।আমি তাদেকে এই ভাগ দিবো না। —তো আমি কি করবো? -আমি এই সব সম্পতি তোমার নামে লিখে দেব।তার কাগজও আমি তৈরি করে রেখেছি। —কি বল? -হুম।

দরজার পিছনের ট্রাংকে সব কাগজ আছে।এই নাও চাবি,কাগজ গুলো নিয়ে এসো। আমি বাধ্য ছেলে মত কাগজ আনলাম।নানুর কথাই সত্যি তিনি সব কিছু আমার নামে লিখে দিয়েছেন।আমি বললাম, —নানু এইগুলো আমি কি করবো? —তোমার কাছে রাখ!অথবা ব্যাংকে রেখে দাও। —আচ্ছা। কিছুক্ষণ থাকার পরে নানুর বাসা থেকে চলে আসলাম।

এউ ধরণের মানুষের কাছে থাকলে আমার খারাপ লাগে।কারণ,এই শুধু ভাল বাসতে জানে কিন্তু ঘৃণা করতে জানে না ★ বাবার উপরে নাইট্রোজেন প্রয়োগের ফলে ওনার শরীরের ক্ষতের পরিমান দিন দিন বাড়ছে।ইদানিং তিনি অফিসে যাওয়াই বন্ধ করে দিয়েছেন।একদিন রুমে বসে বই পড়ছি।জুল ভার্ণের লেখা থার্টি থ্রি নাটি আন্ডার দ্য সি।দারুন বই।কিন্তু এর মাঝে বাবা এসে আমাকে যথেষ্ট বিরক্ত করলেন।তিনি এসে বললেন, —কিরে কি খবর তোর? —ভাল।তোমার শরীর কেমন? —ভাল যাচ্ছে না রে।কি বই পড়ছ? —জুল ভার্ণের বই।

থার্টি থ্রি নাইট আন্ডার দ্য সি। —আচ্ছা ভাল পড়। —বাবা কিছু বলবে? —না।পরে এসে বলবো এখন তুই পড়। —বল সমস্যা নাই। বাবা আমার সামনের চেয়ারটায় বসল।তিনি নিচের দিকে তাকিয়ে আছেন মানে দীর্ঘ আলাপ করবেন।আমি বললাম, —বাবা কফি নিয়ে আসি? —হুম নিয়ে আয় আমি কফি নিয়ে এসে বাবার সামনে বসলাম।বাবা কফি নিলেন কিন্তু সেটা খাওয়ার তেমন আগ্রহ প্রকাশ করলেন না।

বাবা নিরবতা ভঙ্গ করে বললেন, ‘কহিম আমার শরীরটা বেশ খারাপ যাচ্ছে’ —আমি জানি বাবা। —ডাক্তারের কাছে গিয়েছিলাম তিনি বললেন এগুলো ক্যন্সারের দিকে যাচ্ছে। আমি চমকে বাবার দিকে তাকালাম।বাবার মুখটা বেশ মায়াবী লাগছে।

এই প্রথম তার প্রতি একটা ভালবাসা কাজ করছে যা আগে কোন দিন করে নি। —কহিম —জ্বী বাবা —আমি জানি এইসব কেন আমার সাথে কেন হচ্ছে। —কেন বাবা? —আমি জীবনে অনেক পাপ করেছি যার ফল হচ্ছে এই —বাবা এগুলো বলে না। বাবা ওঠে দাড়ালেন।তার চোখমুখে একটা দুঃখী ভাব চলে এসেছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *