আমার মা আমার পাশে এসে বসলো

আমার মা আমার পাশে এসে বসলো। মাকে জড়িয়ে ধরলাম আমি। মা আমার মাথায় হাত বুলাতে বুলাতে বলে উঠে, – দেখ কাঁদিস না, ভুল থেকেই মানুষ শিক্ষা নেয়। আর যে যাই বলুক ওগুলোতে কান দেওয়ার দরকার নেই।

যা হওয়ার হয়ে গেছে। সব ভুলে যাবি তুই। – আমার আর বেচে থাকতে ইচ্ছে করছেনা মা। – এমন করে বলিস না, ভুল মানুষই করে। আর আমরা তোর সবচেয়ে কাছের আপনজন। বাইরের মানুষের কথায় কান দিয়ে কি করবি। দুঃখ করিস না মা, আয় আমার কোলেই ঘুমা আজ। তবুও যেনো চার পাশের মানুষের কথা সহ্য হচ্ছেনা আরোহির।

তার বান্ধিদেরকেও তাদের মা বলে দিয়েছে যাতে আারোহির মতো এমন মেয়ের সাথে না মিশে। আরোহির বান্ধবিরাও আরোহির সাথে তেমন মিশতো না, দুজন ছারা। আরোহি রোজ কাঁদতো জানার পাশে দাড়িয়ে বাইরে অন্ধকারে ঝি ঝি পোকার ডাকের সাথে জোনাকি পোকা গুলোর দিবে তাকিয়ে থাকতো অপলক দৃষ্টিতে।

তার ধারণা এই অন্ধকার আর তার মাঝে এখন আর কোনো তফাৎ নেই। সকলের দৃষ্টির অগোচরে গলায় ওড়না পেচিয়ে মাথার উপরে ফ্যানটার মাঝে ঝেলে পরে আরোহি। কিন্তু মৃত্যুকে সে ছুতে পারেনি। কারণ তার ভাইয়া ও ছোটবোন দেখে ফেলেছিলো। একা একা বসে থাকতো আরোহি। ধিরে ধিরে শারিরিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে তার। হাটার শক্তিটুও পাচ্ছেনা সে। কিছু শক্ত ভাবে মুঠ করে ধরতে পারছেনা সে।

ধিরে ধিরে বলতে গেলে পেরালাইসিস রোগির মতো হয়ে গিয়েছিলো সে। হাসপাতালে নিয়ে গেলে ডক্টর বলে কম বয়সে এতো চাপ নেওয়ায় এমন হয়েছে। আরোহির ঠিক হতে প্রায় চার মাস সময় লাগলো। এই চার মাস তার মা তাকে ধরে ধরে হাটাতো। হাতে দুটু নরম বল দিয়ে বলতো এগুলো জোরে জোরে চিপে ছোট করে ফেলতে।

এভাবেই আরোহির পরিবার তাকে সাপোর্ট করে গেছে। এর মাঝে আরোহির বাবা মা তার আর আদনানের ডিবোর্স ও সম্পর্ণ করে ফেলে। প্রায় চার মাস পর আরোহি পুরুপুরি সুস্থ হয়ে যায়। এদিকে তার টেনের টেষ্ট পরিক্ষা ঘনিয়ে এলো। স্যারদের বলে আব্বু সব মেনেজ করেছিলো। টেষ্ট ফরিক্ষার আর অল্প সময় বাকি।

আরোহির জন্য বাসায় একটা টিচার রাখলো তার বাবা। তার স্কুলেরই টিচার। ধিরে ধিরে পড়ালেখায় মনোযোগি হয়ে উঠো আরোহি। টেষ্ট পরিক্ষা শেষে দেখে সে অংকে ফেল করেছে আর সব বিষয়ে মোটামুটি নাম্বার পেয়ে পাশ করেছে। তার টিচার সেদিন তার মাকে ডেকে বলেছিলো, এই মেয়কে পড়িয়ে আমি কোনো টাকা নিবো না।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *