Life Story

রবার্ট ডাউনি জুনিয়রের অন্ধকারময় জীবন

Amarblogbd
Written by pro_noob

বর্তমান যুগে হলিউডের জনপ্রিয় এবং প্রথম শ্রেনীর অভিনেতা রবার্ট ডাউনি জুনিয়র। তিনি শুধু অভিনয় ই করেন নি তিনি একজন প্রোডিউসার এবং সিঙ্গার ও বটে। বর্তমানে সে যতটা সাক্সেসফুল ততটাই খারাপ তার অতীত।

১৯৬৫ সালের ৪ এপ্রিল রাবার্ট ডাউনি জুনিয়রের জন্ম হয়। তার বাবা একজন ফ্লিম মেকার, এক্টর, রাইটার, ডিরেক্টর ছিলেন এবং তার মা ছিলেন একজন এক্ট্রেস। ছোটোবেলা থকেই রবার্ট অভিনয় এর সাথে যুক্ত ছিলেন। জীবনের প্রথম তিনি তার বাবার মুভি Pound (1970) এ অভিনয় করেন। তার বাবা ছিলেন একজন মাদকাশক্ত। তার বাবার দ্বারাই মাত্র ছয় বছর বয়সে তিনি মারিজুয়ানা ড্রাগের সাথে পরিচিত হয়। তখন থেকেই ড্রাগ নিতেন তিনি। সাত বছর বয়সে তিনি আরো একটি মুভি Greaser’s Palace (1972) তে অভিনয় করেন।

মাত্র আট বছর বয়সে তিনি নেশার রাজ্যে ডুবে যান। তখন তিনি সম্পূর্ন মাদকাশক্ত। তার বয়স যখন ১৩ তখন তার বাবা মার ডিভোর্স হয়। তখন তিনি তার বাবার সাথে ক্যেলোফোনিয়ে চলে যান। স্কুল জীবনেই তার পড়াশোনার সমাপ্তি ঘটে।

প্রোফেশনাল ভাবে অভিনয় রাজ্যে প্রোবেশ এর লক্ষে স্কুল থেকে ড্রপআউট ও হন তিনি। ১৯৮৪ সালে তার পরিচয় হয় ফেমাস অভিনেত্রী সারা জেসিকার সঙ্গে। ১৯৮৭ সালে রবার্ট ডাউনি কে দেখা যায় একজন ফার্স্ট লিডিং এক্টর হিসেবে The Pick-up Artist (1987) এবং Less Than Zero (1987) মুভিতে। ১৯৯১ সালে সারার সাথে তার সম্পর্কের ইতি ঘটে। যার একমাত্র কারন ছিলো অতিরিক্ত মাত্রায় মাদক ঘ্রহন করা। মাদক সম্পর্কিত বিভিন্ন অভযোগে তিনি অসংখ্য বার জেলে ছিলেন। ১৯৯২ সালে তিনি দেবোরা ফেল্কোনা নামের এক এক্ট্রেস কে বিয়ে করেন। ১৯৯৭ সালে অবৈধ মাদক মারিজুয়ানা, হিরোয়িন এবং লাসেন্স ছাড়া হ্যান্ড গান রাখা সহ বিভিন্ন অভিযোগে তাকে জেলে যেতে হয়। জেলে থাকার অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি বলেন

একবার তো আমাকে এমন ভাবে মারধর করা হয়েছিলো যে আমি চোখ ঘুলে দেখতে পেলাম নিজ রক্তের নদীতে পরে আছি। জেলের অবস্থা বর্ননা করাটা খুব কঠিন। সেখানকার পরিবেশ টি এরকম যে সেখাঙ্কার ইলেক্ট্রিক শক সেন্টার, কাটাতার এর জাল, পাহাড়া রত অফিসার সকলেই যেন ব্যস্ত তাদের হাত থেকে পুরো শহর কে রক্ষা করার জন্য। এই অভিজ্ঞতা আমাকে শিখিয়েছে যে সুইসাড এর জন্য আমি কতটাই না বিতিকর ছিলাম।

২০০১ সালে জেল থেকে বের হয়ার পরে তার স্ত্রী তাকে ডিভোর্স দেয়। তখন তার কাছে কোনো টাকা ছিলো না। তার কোনো ফ্যেমেলি ও ছিলো না। তখন সে ঘন্টায় মাত্ত আট সেন্ট এর বিনিময়ে পিজ্জা বানানোর কড়াই মাজতো। তার জীবনের অনেক সময় ধরেই তিনি বাইপুলার ডিসঅর্ডারে ভুগেছেন। একদিন তার দেখা হয় সুজান লেভিন নামের এক মেয়ের সাথে এবং রবার্ট তার প্রেমে পরে যায়। সুজান ছিলেন একজন অত্যান্ত পরিশ্রমী এবং কর্মঠো একজন মেয়ে। তিনি একজন মার্কিন ফ্লিম প্রোডিইসার। রাবার্ট সুজানকে প্রপোস করলে সুজান তাকে একটি শর্ত জুরে দেয় যে মাদকাশক্ত না ছাড়া পর্যন্ত সুজান রবার্টকে বিয়ে করবে না।

এড়ই মধ্যে ২০০৫ সালের উডিয়েলেন্স এর মেলিন্ডা প্রযেক্টে কাজ করতে গিয়েছিলেন রবার্ট, কিন্তু তাকে বের করে দেয়া হয় সেখান থেকে। কারন কেউ ই রবার্ট এর গেরান্টি নিতে চাইছিলো না। তখন রবার্ট এর কাছে কোনো কাজ ই ছিলো না।

সুজান কে তিনি এতটাই ভালোবেসে ছিলেন যে সুজান এর দেয়ে শর্ত গ্রহন করে মাত্র ২ বছরের মধ্যেই নেশার জগত থেকে সম্পূর্ন রূপে বেরিয়ে এলেন তিনি। মনোযোগ দিয়ে দিনরাত পরিশ্রম করলেন এবং ২০০৫ সালে বিয়ে করলেন সুজান কে।

বর্তমানে রবার্ট ডাউনির কি অবস্থা?
বর্তমানে রবার্ট ডাউনি আমেরিকার সর্বোচ্চ পেইড এক্টর দের মধ্যে একজন। তিনি ১৯৯২ সালে করা চ্যাপলিন এর জন্য BAFTA এ্যয়ার্ড পেয়েছেন। ২০০৮, ২০১০ এবং ২০১৩ তে করা সুপার হিট ব্লক বাস্টার ফ্লিম আয়রন ম্যান সিরিজের জন্য এবং ২০০১ সালে এলি এমছিবেল এর জন্য উইনার অফ গোল্ডেন গ্লোব এয়ার্ড পেয়েছেন। ১৯৯৪ এ করা সর্ট কাটস এর জন্য এবং ২০০৯ সালে করা সার্লকহোলমস এর জন্য গোল্ডেন গ্লোব এয়ার্ড পেয়েছেন। ২০১৩ সালের এভেঞ্জারস এর জন্য টু পিপলস চয়েজ এয়ার্ড পান।

তার কিছু বিখ্যাত উক্তি 

you need to know
what to do
when the sun is not shinning

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments