Health Latest post

মৃত্যু ভয়ের রোগ প্যানিক ডিজঅর্ডার

Written by pro_noob

প্যানিক ডিজঅর্ডার বা প্যানিক অ্যাটাক এক ধরনের মানুষিক রোগ যে রোগে আক্রান্ত পৃথিবীর প্রায় বহু মানুষ কিন্তু আসলে জানেই না যে সে এই রোগে আক্রান্ত।

প্যানিক ডিজঅর্ডার আসলে কি? 

ধরুন আপনি জ্যাম এ বসে আছেন, হঠাৎ আপনার মনে হতে লাগলো আপনি মারা যাবেন আপনার হৃদস্পন্দন অনেক বেড়ে গেলো, আপনার হার্ট বিট অনেক জোরে চলতে লাগলো, আপনার নিশাস নিতে কস্ট হচ্ছে , পাশাপাশি হাত পা কাপছে যত সময় যাচ্ছে আপনার কস্ট বেড়ে যাচ্ছে মনে হচ্ছে আপনি হয়ত এখনি হার্ট অ্যাটাক করবেন, আবার ১৫-২০ মিনিট পর আবার সব আগের মতো হয়ে যায়। আসলে এটা হচ্ছে প্যানিক অ্যাটাক। এ ধরনের অ্যাটাক যদি কারো নিয়মিত হয় বা এ সপ্তাহে ৩-৪ বার হয় তাহলে এটাকে প্যানিক ডিজঅর্ডার  বলা হয়ে আত্এতাচটি একটি মানুষিক রোগ এটির কারন আপনার শারীরিক কোন সমস্যা না বরং আপনার ভেতরে ভয় বা মানুষিক রোগ । ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের মধ্য এ রোগ এর প্রবণতা অনেক বেশি দেখা যায়।

প্যানিক অ্যাটাক এর লক্ষন-

প্যানিক অ্যাটাক এর লক্ষণ অনেক রকম হতে পারে তবে বেশি দেখা যায় –

  • হার্ট বিট অনেক জোরে জোরে চলা।
  • হাত পা কাঁপতে থাকা ।
  • অস্থির বা আতংকিত বোধ করা। 
  • হাত পা খিঁচুনি ।
  • বুকে ব্যথা ।
  • পেট এ চাপ বা ডায়রিয়া। 
  • বমি বমি ভাব বা মাথা ঘুরানো।
  • দুর্বল অনুভব করা  অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার  প্রবনাতা অনুভব। 

প্যানিক অ্যাটাক হওয়ার কারন-

প্যানিক অ্যাটাক হওয়ার তেমন কোন আলাদা কারণ না থাকলেও কিছু কিছু কারনে এই ধরনের সমস্যা হতে পারে যেমন অতিরিক্ত মানুষিক চাপ, অতিরিক্ত ধূমপান কাছের কারো মৃত্যু ,অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা ,ব্যক্তিগত জীবনে বা পারিবারিক জীবনে সমস্যা ইত্যাদি।যখন প্যানিক অ্যাটাক হয় মানুষের মন নিজের অজান্তেই মৃত্যু ভয়ে আতংকিত হয়ে পরে আর আমাদের ব্রেইনকে এক ধরনের বার্তা প্রেরণ করে যেহেতু আমাদের শারিরিক অংশ গুলো আমাদের মস্তিস্কের সাথে সংযুক্ত তাই আতংকিত হওয়ার কারনে আমাদের হার্ট বিট বেড়ে যায় আর পাশাপাশি বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয় যেমন- খিচুনি, মাথা ঘুরানো ইত্তাদি। আবার কোন রকম কারণ ছাড়াও প্যানিক অ্যাটাক হতে পারে।

প্যানিক অ্যাটাক থেকে মুক্তির উপায় –

যেহেতু এটি একটি মানুষিক রোগ তাই এর থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য রোগীকে প্রথমে মানুষিক ভাবে প্রস্তত হতে হবে। বেশির ভাগ মানুষের ক্ষেত্রে দেখা যায় যখন প্যানিক অ্যাটাক হয় তারা ভেবে বসে তাদের বড় কোন রোগ আছে আর দ্রুত ডাক্তার এর কাছে যায় ,পরবর্তীতে যখন ডাক্তার কোন রোগ ধরতে পারে না তখন ভাবতে থাকে তার এমন কোন রোগ হয়েছে যেটা ডাক্তার সাড়াতে পারবে না তখন সে বেশিরভাগ সময় একটা আতঙ্কের মধ্য থাকে। তাই রোগীকে প্রথমে মানুষিক বাহবে নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে যে সে এখন প্যানিক অ্যাটাক এ আক্রান্ত হতে যাচ্ছে যদি রোগী মনে মনে ভাবে যে এটা শুধুই একটা মনের রোগ এর কারণে সে মারা যাবে না বা এটি আগেও হয়েছে আবার ১৫-২০ মিনিট পর সে সুস্থ হয়ে গেছে তার এই রোগ এ কোন ক্ষতি হবে না তাহলে সে অনেকটা নিজেকে সাড়িয়ে তুলতে পারবে। এছাড়া প্যানিক অ্যাটাক হওয়ার আগে নিজেকে অন্য চিন্তায় ব্যস্ত রাখতে পারে যেটাকে বলে Mind Divert  তাহলে সে এ রোগ থেকে মুক্তি পেতে পারবে। নিয়মিত এই রোগ কে নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে এক সময়ে এটা পুরোপুরি চলে যাবে।

এছাড়া প্যানিক অ্যাটাক এই জিনিস গুলো করুন – ব্রিথিং এক্সারসাইজ ( জোরে জরে নিশ্বাস নিয়ে কিছুক্ষন বন্ধ করে ছাড়ুন ) , কাছের কারো সাথে কথা বলা, আসেপাশের পছন্দের ছোট ছোট জিনিস পরিষ্কার করা বা সাজিয়ে রাখা ।

মনে রাখবেন প্যানিক অ্যাটাক এ কেউ কখনো মরেনি তাই আপনি ও মরবেন না এটা শুধুই একটা মানুষিক রোগ ।

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments