History

মধ্যযুগের কিছু নির্মম শাস্তির প্রথা

Written by pro_noob

প্রাচীনকালে সবকিছু এখন এর সময় থেকে ছিল অনেকটা ভিন্ন, তখন সবকিছুর মধ্য থাকতো অনেকটা বর্বরতা। এখন এর খুনির আসামিদের শাস্থির প্রন্থা  প্রাচিন কালের থেকে অনেক ভিন্ন ছিলও । দেখে নিন মধ্য যুগের কিছু শাস্তির প্রন্থা যা ভাবলে আপনার আত্মা কেপে উঠবে।

১) লিংচি (lingchi) : লিংচি হচ্ছে মধ্যযুগের সবচেয়ে বর্বরতম শাস্তি গুলোর মধ্য একটি। লিংচির আবিস্কার হয় চায়নাতে। লিংচি হচ্ছে এমন একটি শাস্তির প্রথা যেখানে অপরাধী কে প্রথমে জনসম্মুখে নিয়ে আসা হতো এবং তাকে একটি খারা লাঠি বা বাস এর সাথে বাধা হতো এবং একটু একটু করে তার শরির থেকে মাংস কেটে নেয়া হতো। শরির থেকে প্রথমে একটু করে মাংস কাটা হতো যাতে অপরাধী সহজে না মরে, এমন করে দির্ঘসময় এই প্রক্রিয়া চলতো আস্তে আস্তে অপরাধি অনেক কষ্ট সহ্য করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পরতো। খ্রীস্টপূর্ব 900 থেকে এই প্রথায় বলা হয়ে থাকে অনেক নিরিহ চাইনিজ দের প্রান যায় পরে ১৯০৫ সালে এই প্রথা চায়না সরকার নিষিদ্ধ করে দেয়।

২) ইম্পালিমেন্ট ( impalement) : এটিও মধ্য যুগের বর্বরতম শাস্তির মধ্য একটি ভয়াবহ শাস্তি। খ্রীস্টপূর্ব ১৮ শতাব্দিতে এই প্রথা ভিষন ভাবে প্রচলিত ছিলো। ডাকাতি, সেক্সুয়াল অপরাধ, ধর্মিয় অবমাননা ইত্যাদি কারনে এই শাস্তি দেয়া হয়ে থাকতো। এই শাস্তি যে অপরাধি পেতো তাকে৷ প্রথমে একটি হাত পেছনে বেধে দেয়া হতো, তারপর একটি মোটা সরু বাস তার পেছন ( পায়খানার রাস্তা) দিয়ে ঢুকানো হতো এবং বাস টি তার মাংস ভেদ করে শরিরের অপর স্থান থেকে বেড়িয়ে যেত এভাবে তাকে যে কোন একটা যায়গায় মরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত রেখে দেয়া হতো বিশেষ করে সূর্যের কাছাকাছি অপরাধী আস্থে আস্থে কষ্ট ভোগ করে মারা যেত!

৩) ব্রাজেন বুল (brazen bull) : প্রাচিন গ্রিস এর এটি একটি জনপ্রিয় শাস্তির প্রথা ছিলো। এই প্রোথায় একটি লোহার ষাঁড় এর আকৃতি একটি বাক্সের মধ্য অপরাধি কে ঢুকানো হয় এবং এর মুখ বন্ধ করে এর নিচে আগুন ধরানো হয়। আগুনের তাপে অপরাধি ভেতরে সেদ্ধ হতে থাকে এবং এইভাবে মারাত্মক কষ্ট পেয়ে অবশেষে মারা যায়। বিভিন্ন ধরনের অপরাধের শাস্তি সরুপ এটি ছিল গ্রিস এর প্রধান মৃত্যুদন্ডের ব্যবস্থা। অনেক জায়গায় বর্ননা করা হয় যে এই ষাঁড় এর মুখে একটি পাইপ লাগানো থাকে যেটি ভেতরে অপরাধীর চিৎকার এর শব্দ বেড় হয়ে আসতো, এমনকি ষাঁড় এর নাকে এক ধরনের ছিদ্র ছিলো যার ফলে যখন মানুষ পুড়ে তার শরির থেকে ধোয়া বের হতো মনে হতো সেটি ষাঁড় এর নাক দিয়ে বের হচ্ছে এই দৃশ্য দেখে উৎসুক জনতা খুব আনন্দ পেতো।

৪) রেট টর্চার ( rat torcher) : ১৫৪৮ সালে ডাচ সাম্রাজ্যের চলাকালিন সময় এটি খুব জনপ্রিয় একটি শাস্তি হসাবে ব্যবহৃত হতো। এই শাস্তি প্রথায় ইদুর ব্যবহার করা হতো। অপরাধির প্রথমে হাত পা বাধা হতো এবং তার উপর একটি পাত্র উপুর করে রেখে সেই পাত্রের উপরে আগুন এর গোলা রাখা হতো আর ভেতরে কিছু ইঁদুর রাখা হতো। ইদুর গুলো যখন তাপ সহ্য করে বের হয়ে আসতে চাইতো তখন তার বের হওয়ার একটি রাস্তা হচ্ছে অপরাধীর পেট, ইদুর অপরাধীর পেট কেটে অনেক ক্ষন সব মাংস খেয়ে তারপর বের হতো। এই প্রক্রিয়ায় কেউ বেচে গেলে তার পেটের ভেতর আগুনের গোলা দিয়ে দেয়া হতো এবং সেই হতভাগা অপরাধী বহু কষ্টে মৃত্যু বরন করতো।

৫) সো টর্চার (saw torture) : সো (saw) মানে হচ্ছে ধারালো করাত৷ এটি পদ্ধতিটি হচ্ছে অনেক বেশি ভয়ানক ও মর্মান্তিক, এই পদ্ধতিতে অপরাধীকে মাথা নিচে পা উপরে দিয়ে বাধা হয় এবং মাঝখানে থেকে করাত দিয়ে হয় কখনো অপরাধি কে দুই ভাগ করে ফেলা হয় আবার কখনো হাফ কেটে তার মাথা কে আস্ত রাখা হয় এতে করে মাথার রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক থাকে এবং অপরাধী অনেকক্ষন জীবিত থাকে এবং কষ্ট বেশি পেয়ে ধীরে ধীরে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments