বিবাহের প্রথম রজনীতে প্রথমবারের মতো মেয়েলী সমস্যা দেখা দেয় রেশমি’র

বিবাহের প্রথম রজনীতে প্রথমবারের মতো মেয়েলী সমস্যা দেখা দেয় রেশমি’র! সবে মাত্র চৌদ্দ বছর শেষ হয়েছে তার। সে জানে এর নাম ‘পিরিয়ড’। মা তাকে বলেছিলো এ ব্যাপারে। ক্ষণে ক্ষণে তাকে প্রশ্ন করতো এ নিয়ে। আশুরা বেগমের কত চিন্তা ছিলো এ নিয়ে। কে জানতো বিয়ের রাতেই তার মেয়ে সাবালিকা হয়ে ওঠবে! নব বধূর বেশে বিছানায় চেপে বসে আছে রেশমি।

বুকের ভেতর ডিপডিপ আওয়াজ হচ্ছে। ভয়ে দেহখানা প্রচন্ড কাঁপছে। কি হবে? কি করবে? এমন ভাবনাই তার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে।এমন সময় দরজায় হাসি-রসিকতার আওয়াজ ভেসে আসলো। দরজার সামনেই গেইট পেতে সৌহার্দকে আটকে রেখেছে তার বোন-ভাবীগণ। তাদের দাবী হাজার খানেক টাকা দিলেই তাকে ভেতরে ডুকতে দেওয়া হবে।

প্রস্তাব শুনতেই তৎক্ষণাত না করে দেয় সে। ‘নিজের রুমে যেতে আবার কিসের টাকা?’ এমন যুক্তি সে তাদের বুঝাচ্ছে। এ নিয়েই মিনিট খানেক থেকে তর্ক-বিতর্ক চলছে তাদের মধ্যে। সৌহার্দর একমাত্র বোন সুমি ন্যাকা কান্নার সুরে বলে ওঠে,—” দাভাই! তুমি এমন ক্যা বলো তো? বিলেত থেকে এত এত টাকা নিয়ে আসলা।

আমাগো রে মাত্র কয়ডা টাকা দিতে তোমার হাত কাঁপতাছে?” —” বিলেতে তো আমার চাঁদপানা মুখ দেখেই টাকা দেয়,না রে?” সুমি মুখ ফুলিয়ে বলে,–“আচ্ছা বেশ। শ’পাঁশেক টাকা দিলেই হবে।” সৌহার্দ বোনের ওমন মুখ দেখে আর কথা বাড়ালো না। পকেট থেকে চকচকে একশ টাকার নোট পাঁচখানা বের কর দিলো সুমির হাতে। টাকা পেতেই দরজা থেকে সরে সুমির দিকে অগ্রসর হলো সবাই। সুযোগ বুঝে সৌহার্দ রুমে ডুকে তড়িঘড়ি চিটকানি টা লাগিয়ে দিলো।

হবু বরের উপস্থিতি রুমে বুঝতেই হিমশীতল হাওয়া বয়ে গেলো রেশমি’র শরীরে। তার দেহখানা আগের চেয়ে দ্বিগুণ গতিতে কাঁপছে। ভয় আর অস্বস্তিতে নয়নমণিতে পানির ঢেউ খেলে গেলো। বেনারসির ভারে সে নুয়ে পড়েছে।মাথার উপরের ঘোমটাখানা ঠৌঁট বরাবর দিয়ে বিছানায় বসিয়ে রাখা হয়েছে।

সৌহার্দ ছোট ছোট কদম ফেলে বিছানায় বসলো। চাপা উত্তেজনা নিয়ে সে তার নব বিবাহিত বউয়ের মুখের ঘোমটা টা তুলে ধরলো। এ কি! বউয়ের চোখে এত পানি! সে তো ভেবেছিলো লজ্জারাঙ্গা একখানা পূর্নিমার আলোর মতো মুখ দেখতে পাবে। এ তো হলো উল্টো কান্ড! নববধূর উজ্জ্বল জলমলে মুখ না দেখতে পেয়ে মলিনতা দেখা দিলো সৌহার্দের মুখে।

রেশমি দ্বিগুন ভয় পেয়ে গেলো। সে তাকায় নি,চোখ বন্ধ করে আছে। মামি তাকে বুড়ো টাকলা ব্যাটার সাথে বিয়ে দিয়েছে এ কথা সে বিয়ের আগে একমাত্র মামাতো বোনের কল্যাণে জেনে গিয়েছে। যা রেশমির মনে এক ঘৃণার জন্ম দিয়েছে। তাই সে তাকাতে চায় না ওই মুখের দিকে।

বাবা মারা যাওয়ার পর মাকে নিয়ে একমাত্র মামার বাসাতেই মাথা গুজানোর ঠাঁই হয় তার। মামা-মামী প্রথম প্রথম সহানুভূতি দেখালেও ধীরে ধীরে আসল রুপ বের হয়ে আসে তাদের। রেশমির মামী নানারকম নির্যাতন করতেন তার স্বামীর আড়ালে। একমাত্র মেয়ে রুহানীকে দিয়ে রেশমিকে কম মার খাওয়ায় নি তিনি। বলতে গেলে রেশমিকে ঝিঁ এর মতো খাটাতেন।

Leave a Comment