History Uncategorized

বরফ না আসলে আগুন ছিলো টাইটানিক এর ডুবে যাওয়ার কারন

Written by pro_noob

“টাইটানিক” এই নামটি শুনলে জ্যমস ক্যামরুন এর বিখ্যাত টাইটানিক ছবিটির কথা সবার মনে পরে, ছবিটিতে টাইটানিক এর ডুবে যাওয়ার পেছনে একটি বড় বরফ পিন্ড কে দেখানো হয়েছে কিন্তু আসলে শুধু বরফপিন্ড টাইটানিক এর ডুবে যাওয়ার প্রধান কারন ছিলো না ।

১৯১২ সালে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জাহাজ ছিলও টাইটানিক। টাইটানিক জাহাজটি কিন্তু স্বাভাবিক ভাবেই ডুবেছিলও কিন্তু তবুও ডুবে যাওয়ার এত বছর পরও একে নিয়ে মানুষের মনে এত্ত আকর্ষণ কেন? কারন এর পেছনে লুকিয়ে আছে অনেক রহস্য। অনেকেই মনে করেন টাইটানিক এর ডুবে যাওয়ার সাথে জড়িয়ে আছে কিছু অদেখা সত্য যা মানুষ কখনো উদঘাটন করতে পারে নি। আমরা সাবাই কম বেশি ১৯৯৭ সালের টাইটানিক ছবিটি দেখেছিলাম । কিন্তু আসলেই কি টাইটানিক এতটা স্বাভাবিক কারনে ডুবেছে?

বর্তমানে বিজ্ঞানিরা আবিষ্কার করেছে ভায়ানক কিছু তথ্য যা শুনে আপনি ও অবাক হবেন । বিজ্ঞানিদের মতে টাইটানিক ডুবে যাওয়ার পেছনে আসলে বরফ না বরং আগুন দায়ি ছিলো। বরফপিন্ডের সাথে ধাক্কা খাওয়ার বেশ কিছুদিন আগে থেকে টাইটানিক জাহাজের নিচে এক কোনা অতিরিক্ত উত্তাপে জ্বলতে থাকে এবং সেই যায়গাটা তাপে তাপে পুরে নরম হতে থাকে। বিখ্যাত  সাংবাদিক সেনান মলোনি যে নিজের জিবনের ৩০ বছর টাইটানিক এর রহস্য খুজতে কাটিয়ে দিয়েছে এমন কিছু ছবি আবিস্কার করেছে যার মাধ্যমে প্রমান পায় টাইটানিক এর নিচে এক জায়গায় আগুন লেগে সেখানে দাগের মতো তৈরি হয়েছিলো। এবং সেই বরফপিন্ডটি ঠিক সেই জায়গাতেই আঘাত করে ফলে জাহজের শক্ত লোহা সহজেই ভেঙ্গে যায়। এর থেকে বেশি অবাক করার মতো ঘটনা হলো জাহাজ এর কর্তৃপক্ষ জাহাজটি ছেড়ে যাওয়ার আগেই বিষয়টি লক্ষ করেছিলো কিন্তু তবুও তারা যাত্রা বাদ দেয় নি কারন ওইসময় কয়লার ঘাটতির কারনে আরো দুইটি জাহাজ এর যাত্রা বাদ দেয়া হয় ফলে সব যাত্রিদের টাইটানিকে পাঠানো হয় । কর্তৃপক্ষের এই ভুলের জন্য প্রান দিতে হয়েছিলো এত গুলো মানুষ কে।

লোকমুখে শোনা যায় সাউদাম্পটন বন্দরের দেয়ালে কান পাতলে এখনো কান্নার আওয়াজ শোনা যায়।এই বন্দর থেকেই ১৯১২ সালে ছেড়ে যায় আর এম এস টাইটানিক। টাইটানিক যারা বানিয়েছিলো তাদের বিশ্বাস ছিল ও টাইটানিক কখনোই ডুববে না , তাহলে মাত্র ২ দিন এর মাথা এত বড় জাহাজটি কিভাবে ডুবে গেলো এখানে কি অজানা কোন রহস্য কাজ করে?  নর্থ আটলান্টিক সমুদ্র বন্দরে প্রায় ১৫০০ মানুষের লাশ পাওয়া গিয়েছিলো। টাইটানিক ডুবে যাওয়ার আগে ২ টা জাহাজ টাইটানিক কে সতর্কবার্তা দিয়েছিলো কিন্তু দুর্ভাগ্য ক্রমে একটিও পোঁছাতে পারেনাই। টাইটানিক ডুবে যাওয়ার আগে ১৮৯৮  মরগান রবার্টসন এর লেখা “The Wreck of the Titan or Futility ” বইটি লেখা হয় এবং ওই বইটিটে টাইটেন নামের একটি জাহাজ ঠিক একই ভাবে বড় একটা বরফপিন্ডের সাথে ধাক্কা খেয়ে ডুবে যায় , বইটিতেও টাইটেন কে কখনো ডুববে না বলে আক্ষায়িত করা হয়েছিলো। এসব জিনিস কি শুধু কাকতালীয় ছিলো ?

টাইটানিক ছিলো ইংল্যান্ড এর গর্ব। এমন একটি জাহাজ তারা তৈরি করেছিলো যা কখনোই ডুববে না এই বিশ্বাস তাদের কাছে কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল। প্রকৃতি এটা মেনে নিতে পারে নি।  নর্থ আটলান্টিক মহাসাগরে ১৪ এপ্রিল একটি বড় বরফপিন্ডের সাথে ধাক্কা খেয়ে সমুদ্রের ১৩ হাজার ফুট গভিরে তলিয়ে যায় আর এম এস টাইটানিক। পরবর্তীতে আমেরিকা এর কিছু ধ্বংসাবশেষ উদ্ধার করে যাদুঘরে রেখে দেয়। শুধুমাত্র টাইটানিক কে নিয়ে একটি পুরো জাদুঘর তৈরি করা হয়।

টাইটানিক এ বেচে যাওয়া কিছু যাত্রির অনেক আগে সাক্ষাতক্ষার নেয়া হয়েছিলো , তাদের ভাষ্যমতে টাইটানিক এর ক্যাপ্টেন এর জাহাজ এর প্রতি বেশি আস্থা ছিলও এর ফলে বড় একটি বরফ পিন্ড দেখেও জাহাজ এর গতি কম করা হয় নি , ক্যাপ্টেন এর ধারনা ছিলো জাহাজটি বরফপিন্ড কে ভেঙ্গে চলে যাবে। কিন্তু আসলে বরফপিন্ড টি এতটাই শক্তি শালি ছিলো যা কেউ ধারনা করতে পারেনি। এত বড় জাহাজটি খুব নিমিষেই ১৩০০০ ফুট গভিরে তলিয়ে যায় আমরা দূর এ নৌকা থেকে দেখছিলাম। ভাগ্যক্রমে নৌকায় আমরা উঠতে পেরছিলাম, জাহাজটি কখনোই ডুববে এই ধারনার জন্য জাহাজ এ পর্যাপ্ত পরিমানে লাইফ জ্যাকেট আর বোট ছিলোনা।যেদিন টাইটানিক ছাড়বে দিনটি আসলেই আমাদের জন্য ভীষণ উৎসবের ও গৌরবের ছিলো। নিজের জিবনের এই ভয়ানক অভিজ্ঞতা বলছিলেন টাইটানিক এ বেচে যাওয়া এক যাত্রি।

মানুষের ভুল হোক আর দুর্ভাগ্যই হোক সেই সময়ের সবচেয়ে বড় জাহাজ যাত্রার মাত্র ২ দিন এর মাথায় ডুবে যাওয়া ছিলো আসলেই অনেক ভয়াবহ আর নির্মম। টাইটানিক এর ডুবে যাওয়া রহস্য হিসাবেই থেকে যাবে।

 

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments