পড়ালেখার জন্য অনেক স্বপ্ন ছিলো

পড়ালেখার জন্য অনেক স্বপ্ন ছিলো, যা পলকেই ধূলিসাৎ হয়ে গেলো। —” পেটে হাত দিয়ে চোখ দিয়ে জল বিসর্জন দিচ্ছো। অর্থাৎ পেট ব্যাথ্যা করছে,তাই না? ” বাঁশির মধুমাখা সুরের আওয়াজ পেয়ে বিষ্মিত হয়ে যায় রেশমি। সে মনে মনে বলে,’টাকলা ব্যাটার আওয়াজ তো চিকন শুনাচ্ছে,কীভাবে?

ব্যাটার কন্ঠ তো- ভাঙ্গা ভাঙ্গা মোটা মোটা শুনানোর কথা? কাহিনী কি?’ কথাটা ভেবে না শেষ করতেই চোখ খুলে ফেলে সে। কিন্তু আফসোস, মুখের উপর বেনারসির লম্বা ঘোমটার কারণে সামনের ব্যক্তিটিকে দেখা নসিবে জুটলো না। ঘোমটার আড়ালেই মাথা নাড়ায় সে।

সৌহার্দ ফুশ করে নিঃশ্বাস ছাড়লো। তার মনে অন্য ধারনা ছিলো। যাক তাহলে পেট ব্যাথা বলে কাঁদছে। নিশ্চই আজেবাজে কিছু খেয়েছে। সৌহার্দ প্রশ্ন করে,–” তোমাকে কি ওরা উল্টাপাল্টা কিছু খাইয়েছিলো?” প্রশ্নের বিপরীতে বোকা বোকা চাহনীতে তাকায় রেশমি। কি বলছে এ বুড়ো ব্যাটা? কে তাকে কি খাইয়েছে? সে ঘোমটার ভেতর থেকেই মিনমিন গললায় প্রশ্ন করে,—” কারা?” —‘

তোমার মামা-মামী? ” রেশমি জবাব দিলো না। মামা-মামী তো খাবার ই দেয় নি। আবার উল্টাপাল্টা খাবার। তার ভেতর প্রচন্ড লজ্জা আর সংকোচ কাজ করছে। হঠাৎ পেটের ব্যাথা তীব্র আকার ধারণ করতে লাগলো। রেশমি দাত চেপে কান্টা আটকানোর বৃথা চেষ্টা করলো। সফল হতে না পেরে হালকা শব্দ করে কেঁদে দিলো। সৌহার্দ ভড়কে যায় তার এমন কান্ডে।

কোনে উপায় না পেয়ে সে তার বোন সুমিকে ডেকে নিয়ে আসে। ‘কি হয়েছে দাভাই?’ ‘ তোর ভাবীর কি হয়েছে একটু দ্যাখ তো। সে আমাকে কিছু বলছে না।’ এ বলে সৌহার্দ দরজা টেনে দিয়ে বাহিরে অপেক্ষা করতে লাগলো। কিছুক্ষণ পর সুমি ভরাক্রান্ত মুখ নিয়ে ফিরে এলো। ‘দাভাই…’ ‘হ্যা, কিরে কি হয়েছে?কিছু বলেছে?’ সুমি আমতা আমতা করতে লাগলো। কথাটা সে কীভাবে বলবে ভেবে পাচ্ছে না। সৌহার্দ বোনকে চুপ করে থাকতে দেখে বলে,’ সুমি কি হয়েছে বল? বড় কোনো অসুখ নাকি?ডাক্তার নিয়ে আসা লাগবে নি?’ ‘ না,না।

ডাক্তার লাগবে না। আসলে,’ ‘আসলে কি?’ ‘ ভাবীর ওইসব দিন চলছে। বুঝেছো তো?’ সৌহার্দের অশান্ত মন হঠাৎ থমকে যায়। কয়েক সেকেন্ডের জন্য চুপ করে যায়। ‘ওহ।’ বলেই সৌহার্দ চলে যেতে চাইলো। সুমি বলে উঠে,’ভাই,’ ‘হ্যা,হ্যা। কিছু বলবি?’ সুমি মাথা নিচু করে বলে,’ এটাই ভাবীর প্রথম।’ সৌহার্দ হঠৎ করে চেচিয়ে বলে ওঠে,’কিহ।’

Leave a Comment