Life Story

চার্লি চ্যাপলিন

Written by pro_noob

স্যার চার্লস স্পেনসার চ্যাপলিন জুনিয়র জন্ম ১৬ এপ্রিল ১৮৮৯ লন্ডনে, যিনি ছিলেন একজন ব্রিটিশ অভিনেতা। তিনি তার হাস্যকর অভিনয় দ্বারা প্রতি যুগের সব মানুষের মন জয় করেছে কিন্তু তার জিবনের শুরুটা কিন্তু খুব করুন ছিলও। চার্লির মা ছিলেন একজন মঞ্চ অভিনেতা। ছোটবেলায় একবার তার মা যখন স্টেজ এ গান গাইছিলো গানের কিছু লাইন ভুলে যায় তখনি মঞ্চের মানুষ অনেক বকা ঝকা করতে থাকে আর জুতে ছুড়ে মারতে থাকে ছোট চার্লি মাকে বাঁচাতে নিজে স্টেজ এ উঠে পরে আর নিজের কণ্ঠে গান গাইতে শুরু করে , মঞ্চের মানুষের কাছে সেটা অনেক হাস্যকর লাগে আর সবাই সেটা খুব উপভোগ করতে থাকে । তখন চার্লি বুঝতে পারে যে দারিদ্রতা তার কাছে কষ্টের অন্যদের কাছে সেটা হাস্যকর। তারপর ছোটবয়সেই তার বাব মার ডিভোর্স হয়ে যায় তার বাবা  আরেকটি বিয়ে করে ।মা আর ভাই কে নিয়ে লন্ডন এ বাস করতে শুরু করে চার্লি, তার মার আয়ের কোন উৎস ছিলোনা তাই চার্লিকে সংসার চালানোর ভার নিতে হয় তাও খুব ছোট বয়সে। দারিদ্রতার কারনে চার্লিকে তখন থেকেই কাজ করা শুরু করতে হয়।.৭ বছর বয়স থেকে চার্পলি একটি ওয়ার্কশপ এ কাজ করা শুরু করে। পরবর্তিতে চার্লির ১৪ বছর বয়সে তার মা মানুষিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে এবং পাগলাগারতে ভর্তি হয়, তখন চার্লি আর তার ভাই কে বাবার সাথে থাকার জন্য পাঠিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু সেখানে তার জিবন আরো দুর্বিষহ হয়ে ওঠে , পরবর্তীতে সে আর তার ভাই এতিমখানায় চলে যায়। একটা সময় তার মা ভালো হয়ে ফিরে আসে কিন্তু কিছুদিন পর আবার পাগল হয়ে যায় । ১৪ বছর বয়স থেকে চার্লি কে অনেক দিন একা থাকতে হয়। তার কাছে খাবার ছিলও না ঘুমানোর জায়গা ছিলও না। অসুস্থ মা আর তার দুর্ভাগ্য কে চার্লি গ্রহণ করে নেয় এবং নিজেই তার অসুস্থ মার সেবা করা শুরু করে।

এই সময়টা থেকেই চার্লি স্টেজ শো থেকে কাজ করা শুরু করে দেয়। ১৯০৩ সালে মঞ্চ নাটক  “এ রোমান্স অভ ককেইন-এ সংবাদপত্র বিতরণকারী চরিত্রে তিনি প্রথম কাজ করার সুযোগ পান। কিন্তু নাট্ক টি ২ সপ্তাহের বেশি চলে না। পরবর্তীতে চার্লস ফ্রমেন এর শার্লক হোমস নাটক এর একটি চরিত্রে অভিনয় করার সুযোগ পান।  ১৯১৪ সালে তার প্রথম ছবি ” ম্যাকিং এ লিভিং” দিয়ে প্রথম চলচিত্রে অভিনয় শুরু করেন।  প্রথম চলচিত্র থেকেই নিজের হাস্যরত্মক অভিনয় দিয়ে সবার মন জয় করে ফেলেছিলো। চার্লির দ্বিতীয় ছবিটি “কিড অটো রেসিস এট ভেনিস” এর চরিত্র দ্যা ট্রাম্প কে তিনি নিজের ব্যক্তিত্ব হিসাবে গ্রহন করে, অর্থাৎ চার্লির কথা শুনলেই আমাদের মনে তার যে প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠে সেই চরিত্রটাই ছিল ট্রাম্প চরিত্র যেটি দিয়ে তিনি পরবর্তীতে বহু সিনেমা আর কমেডি করেন। মাত্র ২৬ বছর বয়সে সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেতা হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলেন, তখন এর সময়ে তার পারিশ্রমিক ছিল ৬৭০০০০ মার্কিন ডলার।

১৯১৭ সালে চ্যাপলিন কে অনুকরণকারি লোকের সংখা এতো বেশি হয়ে যায় যে এতে আইনত ব্যবস্থা গ্রহন করা লাগে। ১৯৪0 সালের দিকে চার্লি তার রাজনৈতিক মতবাদের জন্য ব্যাপক বিতর্কিত হন তার মধ্য এডলফ হিটলার এর মত কিছু সাদৃশ্য পাওয়া যায় এতে ১৯৪০ নাগাত তার জনপ্রিয়তা কমতে থাকে। তার শারিরিক গঠন কিছুটা হিটলার এর মতো হওয়াতে তিনি তার পরবর্তী সিনেমায় সরারসরি হিটলার কে ব্যাঙ্গ করেন। এই চলচিত্র অনেক বিতর্কিত হয় এর পাশাপাশি হিটলার বিভিন্ন আইনি ঝামেলায় জড়িয়ে পরেন।

চার্লির বৈবাহিক জীবন তেমন ভালো কাটে নি তার প্রথম ২ টি বিয়ে ২ বছর এর বেশি কাটে নি। সব দুঃখ হতাশা কে পিছনে ফেলেও চার্লি তার অভিনয় দিয়ে কোটি কোটি মানুষের মন জয় করেন।

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments