Uncategorized

কেন নিজের দেহরক্ষীদের হাতে খুন হতে হয়েছিলো ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে ?

Written by pro_noob

৩১ অক্টোবর ১৯৮৪ নয়া দিল্লি, সকাল ৯.৩০ মিনিট ইন্দিরা গান্ধী জনসভা শেষ করে নিজের বাসস্থান এ ফিরেছিলো,  বাসার ভিতর এ ডুকে ইন্দিরা গান্ধী তার দুই দেহরক্ষি সৎবন্ত সিং আর বিয়ন্ত সিং এর দিকে তাকাতেই আচমকা তার দেহরক্ষীরা তাকে গুলি করতে থাকে , একই সঙ্গে প্রায়  ৩৩ টা গুলি ইন্দিরা গান্ধীর দেহ ক্ষতবিক্ষত করে দিলো। সেখানেই প্রান হারালো ভারাতের একমাত্র মহিলা প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী। কেন করেছিলো তার দেহরক্ষিরা এই নির্মম কাজটি ?

ভারতের প্রথম ও একমাত্র মহিলা প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা প্রিয়দর্শিনী গান্ধী জন্ম ১৯১৭ সালের ১৯ নভেম্বর। তার পরিবার নেহারু শুরু থেকেই ভারতের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল। শুরু থেকেই তিনি রাজনীতিতে প্রচুর আগ্রহী ছিলেন । যখন তার বয়স ৪ তখন তার বাবা , ভাই কারাবন্দি হয় , এই সময় খুব একা হয়ে পরেন তিনি তখন ভারতে ব্রিটিশ শাসন চলছিল । ব্রিটিশদের শাসন দেখে তার মধ্য ব্রিটিশ বিরোধী মনোভাব সৃষ্টি হয়  । ১৯৩৮ সালে ইন্দিরা গান্ধী প্রথম ভারতীয় কংগ্রেস এ যোগ দেন। ১৯৪২ সালে তিনি বিয়ে করেন আর বিয়ের কিছুদিন পর কারাবন্দী হন সেখানে ৮ মাস থাকে। তার বাবা ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হওয়ার পর প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। সে সময় সবার কাছে ইন্দিরা গান্ধী খুব পরিচিত হন এবং ১৯৬৬ সালে  ভারতের প্রধানমন্ত্রি নির্বাচিত হন।

১৯৭৭ সালে ইন্দিরা গান্ধীর কংগ্রেস পার্টি ভোট এ জনতা পার্টির কাছে খারাপ ভাবে হেরে যায়।১৯৮৪ সালে ইন্দিরা গান্ধীর নেতৃত্বে শিখ সংগঠনের নেতা জারনেল সিং বিহিন্দ্রানওয়ালাকে হত্যা করে শিখ দের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়ার  লক্ষ্য অপারেশন ব্লু স্টার পরিচালনা করা হয়। ঐ সময় শিখ রাই ছিলো জানতা পার্টির প্রধান শক্তি। ১৯৮৪ সালের ১ জুন থেকে ৬ জুন পর্যন্ত ইন্ডিয়ান মিলটারি আর্মি গোল্ডেন ট্যাম্পেল এ অভিযান চালায় এর ফলে পাঞ্জাব এর বহু শিখ নিজের প্রান হারায় । এর পর এক সময় বন্দুক যুদ্ধে জারনেল সিং ও মারা যায়। এই ঘটনার পর পুরো পাঞ্জাব এ আলোড়ন ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু যুবক যুবতি আন্দোলন শুরু করে ফলে পুলিশের সাথে জন সাধারনের গোলাগুলিতে  বহু মানুষ  প্রায় হারায় যার মধ্য বেশিরভাগই ছিলো শিখ। ব্লু স্টার অপারেশন এর ঠিক ৪ মাস পর ৩১ অক্টোবর ১৯৮৪ সালে ইন্দিরা গান্ধির দুই দেহরক্ষি ক্ষোভ এর বশত তাকে হত্যা করে। তাকে মেরে শিখ হত্যার বদলা নেয়াই ছিলো এই দুইজন এর মূল  উদ্দেশ্য ।

ইন্দিরা গান্ধী তার মৃত্যুর ঠিক কিছুক্ষণ আগে নিজের জিবনের শেষ ভাষণ এ বলেছিলো ” আজ আমি এখানে আছি কাল নাও থাকতে পারি , তবে এ নিয়ে আমার কোন আফসোস নেই কারণ জীবনের শেষ পর্যন্ত আমি জনতার সেবা করতে পেরেছি” ।

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments