Life Story

কেএফসি এর বুড়োর অজানা তথ্য

Written by pro_noob

বন্ধুদের সাথে প্রথমবার কেএফসি তে গেলে তাদের মধ্যে অবশ্যই কেউ না কেউ প্রশ্ন করবে যে দোস্ত এই বৃদ্ধ টা কেরে সব জায়গায় ই তার ছবি। তো চলুন আজ কেএফসি এর এই বুড়োটা সম্পর্কে কিছু অজানা তথ্য জানা যাক।

বয়সের সীমাব্ধতা যে সাফল্যের পথে কখনোই বাধা হয়ে দারায় না তার ই এক উধাহরন কর্নেল হার্লেন্ড ডেভিড স্যান্ডর্স যাকে আমরা আমাদের চলতি ভাষায় কেএফসির বুড়ো বলে চিনি।

১৮৯০ সালের ৯ ই সেপ্টেম্বর আমারিকার হ্যনরিভেল ইন্ডীয়ানা তে জন্মগ্রহন করেন তিনি। পাঁচ বছর বয়েসে তিনি তার বাবাকে হারান। বাবার মৃত্যুর পরে ঘরে আর্থিক অবস্থ্যা সোচনীয় হয়ে পরায়, তার ভাই ও বোনের দায়িত্ব এসে পরে তার কাধে। ১৬ বছর বয়সে স্কুল ছারতে হয় তাকে। মায়ের দ্বিতীয় বিয়ের পর সৎ পিতার বাজে ব্যবহার তাকে তার ঘর ছারতে বাধ্য করে। এর পর ১ বছর এর মধ্যে প্রায় ৪ টি কোম্পানি থেকে তাকে বের করে দেয়া হয়।

তার পর ১৯০৬ সালে তিনি নিউ আল্বানিতে কাকার কাছে যেয়ে বেস কিছু দিন থাকেন। তার কাকা তখন স্কিটকার নামক একটা কোম্পানিতে কাজ করতেন। যার মাধ্যমে তিনি একজন কন্ড্যাক্টার হিসেবে কাজ করার সুযোগ পান।

মাত্র ১৮ বছর বয়সে হার্লেন্ড বিয়ে করেন, কিন্তু বৈবাহিক জীবন ও তার খুব একটা সুখের ছিলো না। ২০ বছর বয়সে বিয়ের মাত্র ২ বছর পরেই তার ডিভোর্স হয়ে যায় এবং তার স্ত্রী তার সন্তান দের নিয়ে আলাদা থাকার সিদ্ধান্ত নেন। ২২ বছর বয়সে তিনি সেনাবাহিনীতে চাকরি পান ঠিক ই, কিন্তু কিছু দিনের মধ্যেই সেখান থেকে ও তাকে তাড়িয়ে দেয়া হয়। এরপর ল স্কুলে এডমিশন এর জন্য এপ্লাই করলে তিনি আবার ও রিজেক্টেড হন। এরপর ইন্সুরেন্স এবং ক্রেডিটকার্ড বেচা থেকে শুরু করে গাড়ির টায়ার বেচা অব্দি অনেক ছোটো ছোটো ব্যবসা তিনি ট্রাই করেন। কিন্তু একটি বার ও তার জীবনে সফলতার লেস মাত্র আসেনি।

তিনি ১৯২৯ সালে কর্বিল শহরে জেয়ে একটি গ্যাস স্টেশন খোলেন। গ্যাস স্টেশন এর পাশে ছোট্ট একটি রেস্টুরেন্ট দিয়ে তিনি নিজের বানানো এক নতুন ধরনের চিকেন ফ্রাই বিক্রি করতে শুরু করেন। যা সেই সময় সমস্ত মানুষের ভীষণ ভাবে পছন্দ হতে শুরু করে। সমস্ত লোকের পছন্দ হওয়ার কারনে তিনি রেস্টুরেন্ট এর ব্যবসাটাকে কিছুটা বড়ো করার সিদ্ধান্ত নেন। কর্নেল ইউনিভার্সিটি তে তিনি হোটেল ম্যনেজমেন্টের ৮ সপ্তাহের কোর্স করেন। হার্লেন্ড স্যান্ডর্স এর বানানো ফ্রাইড চিকেন কেন্টার্কির গভর্নরের এত পছন্দ হয় যে তিনি স্যান্ডর্স কে “কর্নেল” উপাধি দিয়ে দেন। কেন্টাকি তে আরো কয়েকটি রেস্টুরেন্ট খুলে ব্যবসা টা কে আরো বড়ো করার প্রচেষ্টা করলে ব্যর্থতা আবার তাকে গ্রাস করে। হাইওয়ে হওয়ার কারনে গভারমেন্টের অর্ডার অনুযায়ী তাকে তার রেস্টুরেন্ট বন্ধ করতে হয়।

ধীরে ধীরে তার প্রায় সমস্ত আশাই শেষ হয়ে যাচ্ছিলো। এরপর তিনি একটি ছোট্ট ক্যাফেতে বাবুর্চুর কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন। ৬৫ বছর বয়েসে সেই কোম্পানি থেকে অবসর নেয়ার সময় তাকে সিকিউরিটি মানি বাবত মাত্র ১০৫ ডলার এর একটি চেক তার হাতে ধরিয়ে দেয়া হয়। যা ছিলো সে সময় এর কোনো মানুষের মাত্র কয়েক মাসের খরচ চালানোর মত টাকা। মানষিক ভাবে সম্পূর্ন ভেঙ্গে পরেন তিনি এবং বেস কয়েকবার সুইসাইড করার অ এ্যাটেমট করেন।

সব দিকে অসফল হতে থাকলে ও নিজের বানানো চিকেনের রেসিপির উপর তার সম্পূর্ন বিশ্বাস ছিলো এবং ঐ বয়সে ও তিনি হার মানেন নি। চিকেন বানানের ইউনিক উপায়ের মার্কেটিং শেখার জন্য তিনি প্রেসার কুকারে নিজের রেসিপি নিয়ে তিনি বেড়িয়ে পরেন। বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে যেয়ে তিনি তার রেসিপির কথা বল্লেও বেশির ভাগ রেস্টুরেন্টে এর মালিক ই তাকে রিজেক্ট করে দিতে থাকেন। প্রায় ১০০৯ টি রেস্টুরেন্টে থেকে নিরাষ হওয়ার পর তিনি তার প্রথম কাস্টোমার পান। আর তার পর থেকে আজ অব্ধি কখনোই থাকে নিরাষ হতে হয় নি।

সারা জীবন তাকে ব্যর্থতার কালো ছায়ায় জরিয়ে রাখলে ও নিজের রেসিপির উপর সম্পূর্ন বিশ্বাস ছিলো তার। যেটাই তাকে সব বাধা অতিক্রম করে সফলতার শীর্ষে ভীষন ভাবে সাহায্য করেছিলো। তার জীবনে দুটো রুল ছিলোঃ এক, জীবনের যা কিছু নিজের দ্বারা করা সম্ভব সব কিছু করার চেষ্টা করা। এবং দুই, সব সময় কাজে নিজের বেষ্টটা দেয়ার চেষ্টা করা। কেনোনা তিনি মনে করতেন লাইফে কোনো কিছু অর্জন করতে হলে এটাই এক মাত্র পথ।

খুব দ্রুতই বিশ্বের সমস্ত জায়গায় তার চিকেনের ইউনিক রেসিপি সাম্রাজ্য বিস্তার করতে  শুরু করে। এবং ৮৮ বছর বয়সে কর্নেল  স্যান্ডর্স প্রায় কয়েক বিলিয়ন ডলারের মালিক এ পরিনত হন। আজ তার বানানো কেএসসি যার ফুল ফ্রম কেন্টাকি ফ্রাইড চিকেন গোটা বিশ্বের প্রায় ১১৮টি দেশে ছরিয়ে রয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর ১৯৮০ সালে ৯০ বছর বয়সে তিনি নিউমনিয়া রোগে আক্রান্ত হন এবং শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

তার একটি বিখ্যাত উক্তি

One has to remember that

every failure can be

a stepping stone to

something better

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments