Latest post

করোনাভাইরাস- মানুষ নাকি বাদুড়?

Written by viking

করোনাভাইরাস- মানুষ নাকি বাদুড়?

অন্যসব বছরগুলোর মতো ২০১৯ ও স্বাভাবিকভাবেই কেটে যাচ্ছিলো। চীন-আমেরিকার মতো বাঘা বাঘা দুটো দেশের বাণিজযুদ্ধ, ডোনাল্ড ট্রাম্পের রসাত্মক বুলি, হুয়াওয়ে ব্যান সব মিলিয়ে ব্যাপারগুলো বেশ মুখরোচক ছিল। বছর শেষ হতে হতে তাদের এই কোল্ড ওয়ার হয়ত কিছুটা ইতি টানতে যাবে। তবে শেষ সময়ে চীনের উহানে জন্ম নেয় এক আতংকের। ৭০০ কোটি বিশ্ববাসীর ধারণা ছিলো না নতুন বছরে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় ভয়, যা নাড়িয়ে দিয়েছে সবার জীবনযাত্রা, অর্থনীতিকে। করোনাভাইরাস নামে যা আমাদের কাছে এখন পরিচিত। এ ভাইরাসের নামকরণ, জন্ম নিয়েকিছু বিষয় এখানে তুলে ধরা হলো।

COVID-19 এর সূচনা

২০১৯ সালের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ‘২০১৯ নভেল করোনাভাইরাস’ ছিলো এর প্রথম পরিচয়। নাম পালটে ‘কোভিড-১৯’ নামে এখন সবার কাছে চেনাজানা। রোগটির নাম করোনাভাইরাস বা কোভিড-১৯। যে ভাইরাসের কারণে এই রোগের জন্ম তার নাম সিভিয়ার একিউট রিসপারেটরি সিন্ড্রম ২ (Severe Acute Respiratory Syndrome 2) সংক্ষেপে সারস কোভ ২ (SARS COV 2). করোনা থেকে CO, ভাইরাস থেকে VI এবং ডিজিস শব্দ থেকে D। এভাবে COVID শব্দের গঠন।
২০২০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ইন্টারন্যাশনাল ক্লাসিফিকেশন অফ ডিজিসেস (আইসিডি) সারস কোভ ২ নামের নতুন এ ভাইরাসের ঘোষণা দেয়।

এখনকার করোনাভাইরাস কে কোভিড-১৯ নামে পরিচয় দেয়ার পেছনে কারণ আছে। আমাদের নতুনের চেয়ে পুরনো ভয় ফিরে আসলে একটু বেশি বিচলিত হওয়ার রীতি আছে। যাকে আমরা হিউম্যান নেচার বলে থাকি। কোভিড – ১৯ কে সারস কোভ-২ বলে ডাকলে মানুষের মনে, বিশেষ করে এশিয়ার লোকজনের মধ্যে আগের স্মৃতির জের ধরে অস্থিতিশীলতার পরিমাণটা থাকবে। ২০০৩ এর সারস মহামারীর ক্ষত আবার তাজা না করার জন্য এই প্রয়াস। তাই একে কোভিড-১৯ নামে বেশি সম্বোধন করা হচ্ছে।
করোনাভাইরাস আমাদের কাছে নতুন মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তা মোটেও নতুন না। ২০০৩ সালে সারস কোভ (SARS COV) নামক মহামারী ভুগিয়েছে বিশ্বের ২৬টি দেশের প্রায় ৮০০০ মানুষকে। চার বার মানুষের মধ্যে এর আক্রমণ ঘটে। প্রথম বার চীনের দক্ষিণাংশের গুওয়াডং এ ২০০২ এর নভেম্বরে (বছরের শেষ সময়টাই এই ভাইরাসের পছন্দ?!)। ধারণামতে ভাইরাসটির উৎস কোনো এনিমেল বা পশুপাখি থেকে, আংশিক সম্ভাবনা বাদুড়ের থেকে এটি মানুষের সংস্পর্শে এসেছে। চীনে বাদুড় বেশ জনপ্রিয় খাবার। ২০০৩ এ সবচেয়ে বড় আকার ধারণ করে এর বিস্তৃতি। এর পরেও এই ভাইরাস নিয়ে চীনের তাইপেই আর সিঙ্গাপুরে ল্যাবরেটরিতে গবেষণার সময় দুর্ঘটনাবশত আরও তিনবার এর বিস্তার ঘটে। জিনগতভাবে (জেনেটিকালি) সাদৃশ্য থাকায় সারস কোভ এর পরবর্তী সংস্করণ ধরা হয় সারস কোভ-২।

আক্রমণ

৩১ ডিসেম্বর ২০১৯, ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের কাছে অজানা কারণে নিউমনিয়াসদৃশ এক রোগের তথ্য আসে। মাত্র এক মাসের ব্যবধানে, অর্থাৎ ৩০ জানুয়ারি ২০২০ এই রোগকে ইন্টারন্যাশনাল হেলথ ইমার্জেন্সি ঘোষণা দিতে বাধ্য হয় তাড়া। করোনাভাইরাসের উৎপত্তি নিয়ে বেশ কয়েক রকমের কন্সপারেসি থিওরির প্রচলন আছে। সবচেয়ে প্রচলিত থিওরি হচ্ছে এই ভাইরাস কোনো এক সাপের মাধ্যমে এসেছে। ভাইরাসে আক্রান্ত সাপ কোনো বাদুড় খেয়েছে এবং সেই বাদুড়ের কারণে উহানে মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছে। অনেকের মতে এটা বায়োক্যামিক্যাল ওয়েপনারি গবেষণার ফল। চীনের সিক্রেট কোনো ল্যাবে তৈরি। অনেকের মতে, এমেরিকার সেনাসদস্যরা কৃত্রিম এ ভাইরাস চীনের লোকালয়ে ছড়িয়েছে। ফ্রান্স, ইউএসএ, ইউকে এর মতো বেশকিছু দেশ একজোট হয়ে চীনের বিরুদ্ধে ল’সুট বা লিগ্যাল একশনের আশ্রয় নিতে উদ্ধত, হয়ত তারাই এ ভাইরাস অর্থনীতি দখলের ইচ্ছানুসারে ছড়িয়ে দিয়েছে।

তবে যেভাবেই তৈরি হোক না কেনো, চীনের উহানের এনিমেল মার্কেট থেকেই এ ভাইরাস মানুষের সংস্পর্শে আসে। যেখানে বিভিন্ন রকমের পশুপাখি কেনাবেচা চলে পোষা প্রাণী বা খাবার হিসেবে।
সিএনএন এর পক্ষ থেকে প্রায় হাফ ডজন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এ ভাইরাসের উৎপত্তির ব্যাপারে। তবে তাদের প্রত্যেকের উত্তর এক জায়গায় এসে মিলে, তাদের- ‘ধারণামতে’।

এখন পর্যন্ত একটা বিষয়েই একমত হওয়া যাচ্ছে, তা হচ্ছে বাদুড় থেকেই এ ভাইরাস মানুষের মধ্যে এসেছে। শতভাগ নিশ্চিত তথ্য এখনো কারও পক্ষে দেয়া সম্ভব হয়নি।

সূচনা, বিস্তার এসব ব্যাপারে আলোচনা করার মতো অনেক কিছুই আছে, তবে সবচেয়ে জরুরি বিষয় যথাসম্ভব নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা অবলম্বন করা।

তথ্যসূত্রঃ ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন, সিএনএন, ইউনিসেফ ওয়েবসাইট।
লেখাঃ ফুয়াদ উদ্দীন অন্তর

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments