একের পর এক আঘাতে শরিরের রক্ত গড়িয়ে পরেছিলো সেদিন

একের পর এক আঘাতে শরিরের রক্ত গড়িয়ে পরেছিলো সেদিন। গত কয়েকটি মাসের অত্যাচারের থেকে সেদিনের অত্যাচারটা ছিলো খুবই তীব্র। কয়েকমাস সব সহ্য করলেও সেদিন আর সহ্য করতে পারেনি আরোহি। সেইদিন আদনানকে মুখের উপর বলে,
– মনে আছে?

একটা সময় খুব বেশিই ভালোবাসা ছিলো আমাদের মাঝে? অন্ধের মতো ভালোবেসে নিজের পরিবার ছেরে তোমার কাছে চলে এসেছি আমি। দিনের পর দিন সব অত্যাচার সহ্য করেছিলাম আমাদের ভালোবাসার দিকে তাকিয়ে। আর তুমি আমার সেই ভালোবাসার মুল্যটা এভাবে দিচ্ছো?

আদনান আরোহির চুলের মুঠি ধরে বলে উঠে,- তোর কাছ থেকে আমার মুল্য শিখতে হবে? একটু আগে কি বলেছিলাম কথা কানে যায়নি? তোর প্রয়োজন শেষ হয়ে গেছে আমার কাছে। ভালোবাসা দুরে তাক কোনো ইন্টারেস্টই কাজ করেনা তোর প্রতি আর।

মারের আঘাতে মাটি থেকে উঠার শক্তিটুকু পাচ্ছেনা আরোহি। আঘাতের জায়গা গুলো দিয়ে ফোটা ফোটা রক্স বেড়িয়ে আসছে। আরোহি কাপা গলায় আদনানের দিকে তাকিয়ে বলে উঠে,
– আমি যদি মানুষের বাচ্চা হই, যদি আমার কাছে বিন্দু মাত্র আত্মসম্মান বোধ থাকে, তাহলে আমি আর কখনোই তোর মতো পশুর সংসার করবো না।

তার পরও আবার মারে আরোহিকে। এর পর আশেপাশের লোকজন এসে আদনানকে ছাড়িয়ে নেয়।

ঘরটা ফ্লোড় না, মাঠির ছিলো। তাই শারা শরির ধুলোবালিতে মাখামাখি অবস্থা। সেদিন আরোহি তার দেবরের ফোন নিয়ে তার বাবাকে ফোন করে। ভেবেছিলো তার বাবা তার সাথে কথা বলবে না। কিন্তু বাবা সেদিন হুট করে কেঁদে উঠে বলে,
– মা রে তুই যদি আজ ফোন না দিতি তাহলে মনে হয় আমি মরেই যেতাম।

সেদিন খুব কেঁদেছিলাম, বাবাকে সব খুলে বলি। মাকে বলেছিলাম,
– মা মাগো আমি জীবনে সবচেয়ে বড় ভুলটা করে ফেলেছি দু,দিনের জন্য এতো বছরের সম্পর্কে ছেরে এসে। মাগো আমি আর কখনো তোমাদের ছেরে কোথাও যাবো না। তোমাদের সব কথা শুনবো আমি। আমায় এখান থেকে নিয়ে যাও। এখানে থাকলে আমি হয়তো মরেই যাবো।

Leave a Comment