Uncategorized

একই পরিবারের ১১ জন এর আত্মহত্যার অমীমাংসিত রহস্য

Written by pro_noob

মানুষ যখন খুব কষ্টে থাকে অনেক সময় আত্মহত্যা করার কথা চিন্তা করে থাকে, কিন্তু এক সাথে ১১ জন মানুষ এর আত্মহত্যা কি স্বাভাবিক কোন ব্যাপার ?

এমনই এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে দিল্লির বুড়ারিতে । ১ জুলাই ২০১৮ পুলিশ একই পরিবারের ১১ জন সদস্যর মৃতদেহ উদ্ধার করে যেখানে ১০ জন এর দেহ ফাঁসিতে ঝুলেছিল তাদের মুখ ছিলও সাদা কাপড় দিয়ে মোড়ানো মুখে ও কানে টেপ লাগানো ছিলও ,আর একজন যিনি সবচেয়ে বৃদ্ধ ছিলেন তার দেহ ছিল অন্যঘর এর মেঝেতে লুটানো। বুড়ারিতে বসবাসকারি এই পরিবারটিকে সবাই ভাটিয়া পরিবার নামে চিনতো এই পরিবার এর মোট ১১ জন সদস্য ছিলও যেখানে সবচেয়ে বৃদ্ধ নারায়ন দেবি তার দুই ছেলে লালিত , ভাবনেশ তার পুত্রবধু টীনা, সাভিতা তার মেয়ে প্রাতিভা ও ৫ জন নাতি ও নাতনি ছিলো ।

লালিত এর বাবা ২০০৭ সালে স্বাভাবিক ভাবে মৃত্যু বরণ করার পর লালিত অনেক চুপচাপ ধরনের হয়ে পরে, এমনকি মাঝে মাঝে তাকে গাছপালার সাথে কথা বলতে দেখা যেত। লালিত তার পরিবারের সদস্যদের জানায় তার বাবার আত্মা তার মধ্য বাস করছে এবং তাকে ভালো মন্দের উপদেশ দিয়ে থাকে। পরিবারটি বিভিন্ন ক্রিয়া (ritual) কালো যাদু তে বিশ্বাস করতো। আত্মহত্যার কিছুদিন আগে থেকে পরিবারের সব সদস্যরা আত্মহত্যার সামগ্রী সংগ্রহ করতে থাকে যা পরবর্তীতে সিসি টিভি ফুটেজ এ ধরা পরে। ঘটনার দিন পুলিশ তাদের টেবিল এ ১১ টি ডায়েরি উদ্ধার করে যেখানে সব নির্দেশনা দেয়া ছিলও এবং সেখানে এমন ভাবে সব লেখা ছিলও  তে বুঝা যায় যে পরিবারটির ধারনা ছিলো ফাসিতে ঝুললে তাদের কিছুই হবে না বরং এতে তারা অমরত্ম লাভ করবে। ডায়েরিতে এটাও লেখা ছিলও যে ক্রিয়া (Ritual) শেষ হলে একজন অপরের হাত এর বাধন খুলতে সাহায্য করবে । ধারনা করা হয় লালিত এর প্ররোচনাইয় সবাই এই পদক্ষেপ নিয়ে থাকে এবং লালিত ও টিনা সবার হাত পা মুখ বাধতে সাহায্য করে।

ঘটনার দিন পুলিশ তাদের একমাত্র কুকুর কে উদ্ধার করে এবং কুকুরটি তখন ভীষণ জ্বরে কাপছিল, এই ঘটনার মাত্র ২২ দিন পর কুকুরটি হার্ট অ্যাটাক এ মারা যায়।

এই ঘটনার আর একটি চাঞ্চল্যকর দিক ছিলো বাড়ির পেছনে বসানো ১১ টি পাইপ। প্রতিবেশিরা জানায় বাড়িটিতে কিছুদিন আগে নতুন ভাবে ডেকোরেশন করা হয় এবং এক সাথে  ১১ টি পাইপ বসানো হয়, পাইপগুলো যেই দূরত্বে বসানো ছিলও মৃত দেহ গুলো ঠিক ঐভাবে একই দূরত্বে পাওয়া যায়, এটা বলা হয়ে থাকে মৃত্যুর পর তাদের আত্মা যাতে বের হয়ে যেতে পারে তারা ওইভাবে পাইপগুলো বসিয়েছিলো।

পুলিশ এর ধারনা পরিবারটি সাধারণত কোন এক মানুষিক রোগ এ ভুগছিল ।একসাথে এতগুলো মানুষের আত্মহত্যা না হত্যা তা পুলিশ আজ ও বের করতে পার্রেনি।

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments