Life Style

অদ্ভুদ বিশ্বের অদ্ভুদ কিছু ঐতিহ্য

Written by pro_noob

পুরো বিশ্বের অদ্ভুদ কিছু রিতি বা প্রথা যা আপনি দেখলে ভীষণভাবে অবাক হবেন ।

বিশ্বের কোন না কোন দেশ এ এমন কিছু নিয়ম রিতি থাকে যা সাধারন মানুষের কাছে দেখলে খুবই অস্বাভাবিক মনে হবে, আজকে আমরা আপনাদের দেখাবো এমন কিছু অদ্ভুত প্রথা।

১) বাচ্চা ফেলে দেয়ার প্রথা (baby throwing ritual ) –

ভারতের মতো বড় একটি দেশ এর বেশ কিছু জায়গায় এই প্রথার প্রচলন ঘটে থাকে । বলা হয়ে থাকে এটি ৭০০ বছর পুরানো একটি প্রথা।  বড় উচু কোন মন্দির এর নিচে একটি ভারি কাপড় জাতীয় কিছু বিছানো থাকে এবং সদ্য জন্ম নেয়া কোন বাচ্চা কে সেখান থেকে নিচে ফেলে দেয়া হয় । মুসলিম ,হিন্দু সবাই এটা করে থাকে । তাদের বিশ্বাস এই প্রথার মাধ্যমে তারা বাচ্চাদের সুন্দর ও কল্যাণকর ভাগ্য নিশ্চিত করে থাকে। তারা আরও বিশ্বাস করে যে কোন অদ্ভুদ শক্তি তাদের বাচ্চাদের কোন ক্ষতি হওয়া থেকে রক্ষা করে। তবে এই প্রথায় কখনো কোন দুর্ঘটনার রিপোর্ট পাওয়া যায়নি ।

২) ইন্দোনেশিয়ায় মেয়েদের খাৎনা (sunnat perempuam)-

মুসলিম দেশ গুলোতে সাধারণত ছেলেদের সুন্নতে খাৎনা খুব সাধারন একটা বিষয়, কিন্তু আপনি কি জানেন ইন্দোনেশিয়াতে বিভিন্ন জায়গাতে মেয়েদের খাৎনা করা হয়ে থাকে ।এটা ইন্দোনেশিয়ায় খুব প্রাচিন কাল থেকে চলে আসছে। একটা রিপোর্ট অনুযায়ি দেখা যায় প্রায় ৬ কোটি মেয়ের সুন্নতে খাৎনা করানো হয়েছে। মেয়েদের খাৎনা করার নিয়ম ছেলেদের মতোই, মেয়দের যোনি উপরের অংশের চামড়ার সামান্য কিছু পরিমান কেটে এই প্রথা সম্পন্ন করা হয়ে থাকে। অনেক সময় মেয়ে শিশু জন্ম নেয়ার সাথে সাথে তাকে এই ভয়ানক প্রথার স্বীকার হতে হয় । ২০০১-২০০২ সালের একটা রিপোর্ট অনুযায়ি প্রায় ৮৫.২ ভাগ মেয়ে শিশু মাত্র ৯ বছর হওয়ার আগে , ৯৬.৭ ভাগ ৫ বছর এর আগে এবং ৮২.৮ ভাগ হয়ে থাকে ০-১১ মাস এর মধ্য এই প্রথার স্বীকার হয়ে থাকে।

৩) তিব্বত এ মৃত মানুষের সংস্কার (sky burial)-

মধ্য এশিয়াতে অবস্থিত খুব ছোট একটি দেশ তিব্বত । অনেক অদ্ভুত কান্ড ঘটে থাকলেও এ দেশের সবচেয়ে অদ্ভুদ ঘটনাটি হচ্ছে মৃত মানুষের সংস্কার এর নিয়ম টি । বিভিন ধর্মের মানুষ বিভিন্ন ভাবে মৃত মানুষ সংস্কার এর কাজ সম্পন্ন করে থাকে কেউ আগুনে পোড়ে কেউ বা কবর দেয় কিন্তু আপনি জানেন কি তিব্বত এর মানুষ এর একটাও করে না বরং তারা সংস্কার এর জন্য মৃত মানুষটি কে প্রথমে বড় একটি মাঠে নিয়ে আসে তারপর সেই লাশ টিকে কেটে কয়েক টুকরো করে এবং সেই মাঠে সেটিকে বিছিয়ে অপেক্ষা করে চিল বা শকুন এর যারা এসে লাশ এর টুকরো গুলো কে চিবিয়ে খাবে । এই দেশ এর মানুষ শকুন বা চিল কে দেবদূত মনে করে এবং তারা ভাবে তাদের মৃত দেহ চিল শকুন এ খেলে তারা খুব দ্রুত স্বর্গে যেতে পারবে । আপনি ভাগ্যবান কারন আপনার জন্ম তিব্বত এ হয়নি।

৪) ইন্দোনেশিয়ায় মৃত মানুষের সাথে বসবাস (Living with death peoples)-

আবার ও তুলে ধরবো ইন্দোনেশিয়ার একটি অদ্ভুত নিয়ম । ইন্দোনেশিয়ার সুলাওেসি নামের দ্বিপ এর তোরাজা নামক এক জাতি বছরের পর বছর মৃত মানুষের সাথে বাস করছে। মৃত মানুষের সাথে বাস করা তাদের জন্য খুবই সাধারন একটা ব্যাপার। এখানের মানুষ যখন মারা যায় তাদের সংস্কার এর জন্য পালন করতে হয় অনেক নিয়ম এবং এই নিয়ম মেনে সংস্কার করতে গেলে প্রয়োজন অনেক টাকার উচ্চবিত্তরা এই টাকা ১-২ মাসে জোগাড় করতে পারলেও মধ্যবিত্তদের এই টাকা জোগাড় করতে অনেক বছর লেগে যায় এর ফলে তার সেই মৃত লাশকে নিয়েই বসবাস করা শুরু করে। এখানে বেশিরভাগ মানুষ মধ্যবিত্ত হওয়াতে তাদের সংস্কার এর টাকা জোগাড় করতে অনেক সময় ১০-১২ বছর ও লেগে যায় এবং এই সময়টা তারা খুব স্বাভাবিক ভাবেই লাশ এর সাথে বসবাস করে এমনকি তাদের খাবার ও প্রদান করে থাকে। এই জনগোষ্ঠীর বেশির ভাগই ক্যাথলিক। খুবই অস্বাভাবিক ।

৫) বউ অপহরণ (Bride kidnapping/ Bridenapping) –

উজবেকিস্থান সহ দক্ষিন এশিয়ার বিভিন্ন দেশ এ প্রচলিত আছে এই অদ্ভুত প্রথার। এই প্রথায় সাধারনত কোন মেয়ে কে কিডন্যাপ করা হয় এবং অন্য দেশ এর মানুষের কাছে এটা অস্বাভাবিক হলেও তাদের জন্য এটা খুবই সাধারন। কোন মেয়েকে যদি কোন ছেলে অপহরন করে ৭ দিন এর বেশি সময় তার কাছে রাখতে পারে তাহলে ছেলেটি মেয়েটির স্বামী হিসাবে স্বীকৃতি লাভ করবে । এতে মেয়েটির যদি মতামত না ও থাকে তাতে কিছুই হবে না তাকে ঐ ছেলের সংগেই থাকতে হবে। প্রাচিনকাল থেকে চলে আসছে এই অদ্ভুত প্রথা । কিছু  সাংস্কৃতির মানুষ এটাকে নিজেদের ঐতিহ্যর অংশ হিসাবে মনে করে। এটা কে একধরনের জোড়পূর্বক বিয়ে বলা যায় না?

৬) পা বাধাই (Foot binding)-

হাজার বছর এর ঐতিহ্য ধরে রাখতে চায়নাতে কম বা মধ্যবয়স্ক মেয়েদের পায়ের আকৃতি বা আকার পরিবর্তন করার জন্য তাদের পা কে বাধাই করে রাখা হয় যাতে তাদের পা এর আকৃতি সুন্দর থাকে । পা বাধাই করে পায়ের আকৃতি অনেক সুক্ষ করে ফেলা হতো, কে চায়না তে সৌন্দর্যের এবং উচ্চবিত্ত দের অহংকার হিসাবে ধরা হয়।ধারনা করা হয়  খ্রিস্টপূর্ব ১০ শতাব্দি তে চায়না তেএই অদ্ভুদ নিয়ম এর প্রচলন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে উচ্চবংশের নারীদের এই নিয়ম মানতে বাধ্য করা হতো। মেয়েদের স্বাভাবিক বিকাশ এর বাধা হয়ে দাঁড়ানোর ফলে আধুনিক যুগে এসে এই প্রথা নিষিদ্ধ কারা হয়। কিন্তু আজ ও চায়নার কিছু জায়গায় প্রত্যান্ত অঞ্চলে মেয়েদের পা বাধাই করতে বাধ্য করা হয়ে থাকে। এটা সত্যি খুব নির্মম একটি প্রথা ছিলো।

৭) টমেটো যুদ্ধ (La Tomatina in Spain)-

ভাবুন তো অনেক মানুষ একজন আর একজন কে টমেটো ছুড়ে মারছে বিষয় টা অদ্ভুদ কিন্তু মজার ও বটে। স্পেন এ রয়েছে ঠিক এই রকম একটি মজার উৎসব। প্রতিবছর আগস্টের শেষ বুধবার স্পেন এর ভেলেছিয়ান শহরে পালন করা হয় টমেটো উৎসব। এই দিন হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে একজন আর একজন কে টমেটো ছুড়ে মারে শধুমাত্র মজা করার জন্য । এটিকে পুরো বিশ্বের সবচেয়ে বড় টমেটো উৎসব হিসেবে ধরা হয়ে থাকে। তবে এর জন্য আপনাকে অবশ্যই অগ্রিম টিকেট কিনতে হবে । আপনি ও অবশ্যই আমার মতো একবার হলেও এই উৎসব এ যেতে চান তাই না?

 

 

 

 

Subscribe
Notify of
guest
0 Comments
Inline Feedbacks
View all comments